echo '' ;

হ্যাকিং আর আমাদের ভবিষ্যৎ

হ্যাকার! হ্যাকার! হ্যাকার!
হ্যা, এই হ্যাকারদের জ্বালায় ইন্টারনেটে কিছু করাই মুশকিল। কখন কি করে বসে, কখন কোন ওয়েব সাইটের ফিসিং সাইট বানিয়ে রাখে, কখন জানি আমার সোশাল একাউন্ট হ্যাক করে নেয়। এসব ভেবে ইন্টারনেটে কিছু করতেই ভয় হয়।
এইতো এই মাসের সবচেয়ে বড় মাঝেলাটাই হলো Hacker Vs Microsoft.। যার সম্পূর্ণ প্রভাব windows10 এর উপর।
ঠিক মত চালাতেই পারছিনা। Update এ গিয়ে আটকে যায়। Restart হয়না,, উফফফ। অতিষ্ঠ !
তাই ভাবলাম যারা এই জিনিস সম্পর্কে না জানে বা খুব অল্প ধারণা তাদের জন্য পোস্ট টা করেই ফেলি😃।
আসলে হ্যাকার মানেই যে বাজে তা নয়।হ্যাকার হলো ইন্টারনেট জগৎ এর ক্রিমিনাল বা অর্ধেক রবিন হুড বা পুরোটাই।

রবিন হুড দ্বারা কি বোঝাতে চেয়েছি নিশ্চয় বুঝেছ ?
বাস্তব দুনিয়ায় যেমন ক্রিমিনাম খারাপ হয়, নিজের সার্থের বাইরে কিছু করেনা তেমনি আবার অনেকে জনগণের জন্য কোন ক্রাম করে। আরেক প্রকার সাধারণের ক্ষতি করেনা উপকারওনা। শুধু খারাপ দের শাস্তি দেয়।
খুব মজার না?
তো এখন নিশ্চয় বুঝতেই পেরেছো হ্যাকার রা যেমন ভালো আছে খারাপো আছে ।তাদের মানুষিকতার উপর নির্ভরকরবে সে কেমন ।
wikipedia মামার বক্তব্য অনুসারে “হ্যাকার হচ্ছেন সেই ব্যক্তি যিনি নিরাপত্তা/অনিরাপত্তার সাথে জড়িত এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বল দিক খুঁজে বের করায় বিশেষভাবে দক্ষ অথবা অন্য কম্পিউটার ব্যবস্থায় অবৈধ অনুপ্রবেশ করতে সক্ষম বা এর সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের অধিকারী।”

এখান থেকে এটুকু বুঝতে পারলাম হ্যাকার রা অনেক জ্ঞানের অধিকারিও হয়ে থাকে ।তবে জ্ঞান টা হতে হবে সাইবার/ ভার্টুয়াল জগত নিয়ে। কারণ একজন একজন ডাক্তার যেমন জানে কোথায় কি আছে তেমনি হ্যাকার কেও জানতে হবে ইন্টারনেটের কোথায় কি কিভাবে চলে বা কাজ করে।তবে ভাই নাক, কান গলা, হাত, চর্ম এরকম আলাদা ডাক্তার যেমন আলাদা বিষয়ে এক্সপার্ট হ্যাকার দের এমন হলে চলবেনা। কারণ সাইবার জগতের একটা অংশ জেনে কেউ ভালো কিছু করতে পারবেনা।

হ্যাকার অনেকটা পুলিশের মত, যদি সে গভার্নমেন্টের জন্য কাজ করে। আবার অন্য দিক দিয়ে ক্রিমিনালও । যদি অন্যায় কাজ করে।তবে একজন ক্রিমিনাল ধরা না পড়তে চাইলে তার প্রতিটা জিনিস সম্পর্কে জানতে হবে। আবার অন্য দিকে একজন ক্রিমিনালকে ধরতে হলে পুলিশ কে চোরকি করে, কিভাবে কি করে সব জানতে হবে ।নয়তো ক্রিমিনালকে ধরতে পারবেনা ।

তো এতক্ষনেও যারা হ্যাকার কি বুঝতে পারোনি তারা চলে যাও। তোমরা হতে পারবেনা।আর যারা বুঝতে পেরেছে তাদের বলি, চলো জেনে নেই হ্যাকার হতে কি কি করতে হবে, জানতে হবে ?

১) প্রচুর বই পড়তে হবে।

২) ধৈর্যবান হতে হবে

৩) গোপন করা শিখতে হবে।

৪) নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা করতে হবে।

৫) সময়ের আপডেট বিষয় গুলোর প্রতি খেয়াল রাখতেহবে।

৬) অবশ্যই সৃজনশীল হতে হবে।

প্রচুর বই পড়ার অভ্যাসের মাঝে কয়েকটি জিনিস জানতে হবে,সেটি হলো

১) কম্পিউটার সম্পর্কে ধারণাঃ

একজন হ্যাকার কে কম্পিউটার সম্পর্কে সব ধরণের জ্ঞান থাকতে হবে।Command Line Interface(CLI) সম্পর্কে জানতে হবে। সেটা হতে পারে Windows ,Linux  অথবা Mac সম্পর্কে জানতে হবে । এছাড়াও File Extention ,File Permission ,কম্পিউটারের বেসিক কমান্ড,Root Folder ইত্যাদি সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকতে হবে

২) নেটওয়ার্কিং সম্পর্কে ধারণাঃ

তোমাদের অবশ্যই নেটওয়ার্কিং্যের বেসিক কিছু ধারণা রাখতে হবে। যেমনঃ

  • DHCP
  • NAT
  • Subnetting
  • IPv4
  • IPv6
  • Public V Private IP
  • DNS
  • Routers and switches
  • VLANs
  • OSI model
  • MAC addressing
  • ARP

এগুলো সম্প্রর্কে ভালো মতো জ্ঞান অর্জন করতে হবে । তবেইনা সবার চোখে চাখমা দেয়া যাবে ।

৩) অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে ধারণাঃ

আমাদের বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। অপারেটিং সিস্টেম কি ? সে সম্পর্কে আরেক দিন বলা আবে। শুধু এটকু জেনে রাখ অপারেটিং সিস্টেন হলো একটি সফটওয়্যার যেটি কম্পিউটারের হার্ডওয়ার (CPU,RAM,I/O) এগুলোকে ব্যবহার উপযোগী করার জন্য ব্যবহারকারীকে একটি ইনভায়রনমেন্ট তৈরি করে দেয় এবং এই ইনভায়রনমেন্টের মধ্যেই ব্যবহারকারী কম্পিউটার দ্বারা কাজ করতে সক্ষম হয়।

বিভিন্ন অপারেটীং সিস্টেম রয়েছে। যেমনঃ

১) Unix

২)  Solaris

৩) Mac OS

৪) Linux

তোমাদের ভালোর জন্য বলি, হ্যাকারদের জন্য Unix বা Linux টাইপের অপারেটিং সিস্টেম গুলো সবচেয়ে ভালো। এইগুলো নিয়ে অন্য একদিন বলা যাবে।

3) প্রোগ্রামিংঃ

প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ হচ্ছে , কতগুলো নির্দেশনা বা কমান্ডের সমষ্টি – যেটা কম্পিউটারের মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে পরিবর্তিত হয়ে এজকজন কম্পিউটার অপারেটর ও কম্পিউটারের মধ্যে সংযোগ সৃষ্টি করে। একজন হ্যাকারের প্রোগ্রামিং কোড সাধারণত হাই লেভেলের ল্যাঙ্গুয়েজ হয়ে থাকে। এইসব প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ দ্বারা একজন হ্যাকার হ্যাক করে বা হ্যাকিং এর বিভিন্ন সফটওয়্যার তৈরি করে।

যুগের পরিবর্তের সাথে অনেক প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েরজ এসেছে। এদের মাঝে –

  • C
  • C++
  • Java
  • Python
  • Ruby
  • PHP
  • JavaScript

একজন হ্যাকার হতে হলে অবশ্যই ভালো প্রোগ্রামার হতে হব। নয়তো সম্ভব নয় কিছুই।

৫)ডাটাবেজঃ

ডাটাবেজ সম্পর্কে বলতে গেলে অনেক কিছুই বলা যায় । তবে আমি শুধু এটূকুই বলব ,ডাটাবেজ হলো অনেক তর্থের সংগ্রহশালা। সাইবারে যেকোন তথ্য ডাটাবেজে জমা হয়ে যায়।

একজন দক্ষ হ্যাক্র কে ডাটাবেজ সম্পর্কে জানতে হবে। এইজন্য তোমাদের ডাটাবেজ ল্যাঙ্গুয়েজ সম্পর্কে জানতে হবে-

1) Oracal

2) MySQL

3) MSSQL

4 )PLSQL

5) NOSQL

এই ল্যাঙ্গুয়েজ গুলো অবশই শেখা উচিত।

For more…see next post..

You may also like...