echo '' ;

অজানা কিছু কথা।

 

_______নিলুফা ইয়াসমিন

সবজান্তা সমীপেষুর মত ভান করে রিয়া বলল “হুম, আমি জানতাম”

পকেট খালি থাকায় সাব্বিরের মেজাজ বিগড়েই ছিল।ওর কথায় হঠাত সাব্বির রেগে গিয়ে বলল”জানতিস তাহলে বলিস নাই কেন?

তুমি আমাকে তুই করে বললা, সাব্বির।রিয়া কাদো কাদো গলায় বলল।

হুম, বললাম।যাও এখন তোমার বাড়িতে।

মানে? কই যাব আমি?

বাসায় যাবি। সোজা বাসায়।নাকি কান্না যেন দেখিনা।আর একদম পিছু নিবিনা।

সাব্বির সামনে হাটতে শুরু করল।রিয়া ওর পায়ের কাছে একটা পাথর পেয়ে রাগে ছুড়ে মারল সাব্বিরের পায়ে।আহ,সাব্বিরের পায়ে পাথরটা লাগতেই ব্যথা পেয়ে সে জন্যশুন্য মাঠের ঘাসেই বসে পড়ল।পাথর মারলি কেন!

রিয়া উদগ্রীব চোখে দৌড়ে এলো।”ব্যথা পাইছো?কোমল হাতে সাব্বিরের পায়ে সে হাত বুলিয়ে দিল।

হুম পাইছি।ব্যথা দিলে কেন?

তুমিও তো আমাকে দিছো?পায়ে একটা জোরে চিমটি কেটে বলল রিয়া।

কই পাইছো? কখন পাইছো?

একটু আগে বুকে ব্যথা দিছো।

তাই নাকি।দেখিনা তো!

দেখবা,ড্রেস খুলব।একটু সুর টেনে কথাগুলো বলছে রিয়া।ভারি মিস্টি শোনাচ্ছে ওর গলাটা।

অত সাহস তোমার আছে?

ওর কথা শুনে রিয়া ওর টপটা নিচ থেকে তুলে খুলতে যাচ্ছিল সাব্বির ওর হাত ধরে ফেলল।

পাগলী তুই!আমাকে কেস খাওয়াবি তো।

খাওয়াবোই তো। ধর্ষন কেসে ফাসিয়ে তোমাকে বিয়ে করে মাথায় উঠে নাচব।

সাব্বির রিয়াকে কাছে টেনে নিয়ে বলল “তাই!

আচ্ছা তুই যদি জানতিসি আজ বাসের স্ট্রাইক তবে পালিয়ে বিয়ের বায়না আজই কেন ধরলি!

বিকজ

কি!!!!সন্দিহান চোখে সাব্বির রিয়ার দিকে তাকাল।

আমরা পালিয়ে বিয়ে করছিনা।

তাহলে?

বাবা আপনাকে মেনে নিয়েছে।তোমাকে নিয়ে যেতে বলেছে।

তা আগে বল নাই কেন?

বললে তোমার মুখে তুই শুনতাম কিভাবে?

তাই পাগলি।

হুম।

তাহলে এবার থেকে তুই করেই বলব।

না,না।।।।সবসময় তুই শুনবে কে?

তুই।

চুপ,আচ্ছা পায়ে অনেক ব্যথা পেয়েছিলে?

হুম।

কি করলে ব্যথা কমবে।

একটা পাখির হাসি দেখলে।

এখন পাখি পাব কই।

সাব্বির ইশারা করে রিয়াকে দেখায়।রিয়া খিলখিল করে হেসে উঠে।

দুস্টুমি আর খুনসুটিতে সময় কেটে গেছিল সেদিন।হাতটা শক্ত করে ধরে সাব্বির রিয়াকে বলেছিল”তোমার বাবা আমাকে মেনে নিয়েছেন তো?অবিশ্াসের সুর ওর গলায়।রিয়া ভরসা দিয়ে বলেছিল হুম।

আজ অনেকদিন পর কথাটা মনে পড়ে গেল রিয়ার।স্বামীর ভালবাসা পেয়ে প্রতারক সাব্বিরকে ভুলেই গেছিল রিয়া।আজও হয়তো মনে পড়তোনা যদি না গাড়ি করে যাবার সময় রাস্তার পাশে একটা পাগলকে রিয়া! রিয়া! বলে ডাকতে বা শুনতো।পাগলটা সাব্বির ছাড়া অন্য কেও নয়।বিয়ের রাতে লগ্ন পেরিয়ে যাবে এমন সময় সাব্বির একটা চিঠি পাঠিয়েছিল।

রিয়া,

আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি আমাদের ধর্মের দিক বিবেচনা করে দেখলাম আমি তোমাকে বিয়ে করতে পারবনা।আমার মুসলিম পরিবারে মানিয়ে থাকতে পারবেনা।আশা করি বুঝতে পারবে।

ইতি

সাব্বির

জ্ঞান হারিয়েছিল রিয়া চিঠিটা পড়ার পর।লগ্নভ্রষ্টা হয়নি রিয়া সেদিন। বিয়ে হয়েছিল সৌরভের সাথে।আজ রিয়া ভাল আছে।ভাবে বাবাই ঠিক ছিল।

আজ হঠাত প্রতারকটাকে দেখে ঘেন্নায় ড্রাইভারকে দ্রুত গাড়ি চালিয়ে যেতে বলল রিয়া।রাস্তায় পড়ে রইল সাব্বির নামক পাগলটা রিয়াকে ডাকতে ডাকতে একটা গাড়ির সাথে ধাক্কা খেয়ে আর পড়ে রইল কিছু অজানা কথা।

আকাশ বাতাস রিয়ার চলন্ত গাড়ির পিছু পিছু বলে চলেছিল রিয়া,সাব্বির সেদিন তোমাকে ঠকায়নি। ঠকিয়েছিল তোমার বাবা।আর তারই ষড়যন্ত্রের কাছে হেরে গিয়ে আজ সাব্বির তোমার কাছে হয়েছে প্রতারক।

You may also like...