echo '' ;

পরকীয়া

আমি আর কোনো কথাই বাড়ালাম না।দেয়ালে একটা জোরে কিল বসিয়ে দিয়ে বললাম আমি বেরিয়ে যাচ্ছি।

সাহিদা দু কদম পিছিয়ে গেলো।তার মুখে একটা টু আওয়াজ অবধি নেই। কিন্তু আমি চাচ্ছি সে কিছু বলুক।সে আমাকে কিছু কৈফিয়ত দিক।চোখ ভরে ওর জল আসুক।একটাবার অনুতপ্ত হয়ে আমাকে বলুক ,

“সায়েম আমি ভুল করে ফেলেছি।আমাকে ক্ষমা করে দাও।ভুল তো সবারই হয় ।আমারও হয়ে গেছে।আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি কিন্তু মোহে পড়ে ভুল হয়েছে।”

কিন্ত সাহিদা কিছুই বললনা।ওর চোখ যেন নিষ্ঠুর হয়ে গেছে।যেমনটা হয়ে গেছে আমার।

আমি আরো কিছুক্ষন দাড়ালাম।দেয়ালে জোরে আঘাত করায় আমার হাতের তালু কেটে গিয়ে রক্ত ঝরে পড়ল ফ্লোরে।সাদা ফ্লোরে দু ফোটা লাল ঝরে পড়তেই সাহিদা আতকে উঠলো।ওর চোখ লাল হয়ে গেছে।ওর চোখের সাথে আমার চোখাচোখি হলো।

আমি মৃদু শ্বাস ছেড়ে ফ্ল্যাটের দরজা খুলে বেরোনোর পদক্ষেপ নিলাম।সাহিদা দৌড়ে এসে আমার হাত ধরলো।

তোমার হাত কেটে গেছে!!! তুমি বেরিয়োনা।ওর নিষ্ঠুর চোখে ঝেকে আমি একটু ভালবাসা খুজলাম।কিন্তু এক ফোটাও ভালবাসা নেই।মনভর্তি যেন ঘৃনা ।

আমি ওর দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললাম মনটাই তো রক্তাক্ত হয়ে গেছে আমার। আমি তো ব্যথায় জর্জরিত!!

সাহিদা কিছু বললোনা।চুপ করে রইলো।

আমি ওর অভিব্যাক্তি দেখে মৃদু হেসে বললাম,তুমি ভুল  করোনি।যাও ঘরে যাও।

আমি সাহিদাকে সরিয়ে দিয়ে বেরিয়ে এলাম।নির্জন পথ।লাল হলুদ স্ট্রিটলাইটগুলা ক্রমাগত আমার দিকে তাকিয়ে টিপ্পনি কাটছে।বউ সামলে রাখতে পারলিনা!!!!

আমি ওদের টিপ্পনী শুনে বললাম আমি নিজেই তো সামলে থাকিনি।অন্যের স্ত্রীর লিপস্টিকের দিকে তাকিয়ে সাহিদার ভালোবাসার কথা ভুলে যেতাম।রাতবিরেতে অন্যের স্ত্রীর অর্ন্তবস্ত্র কল্পনা করে বেরিয়েছি।অন্যের স্ত্রীর কামনায় দগ্ধ হতে গিয়ে সাহিদার প্রতি ভালোবাসার দায়িত্বগুলো পালন করতেই ভুলে গিয়েছিলাম।তার তো কোনো ভুল নেই।

আমি তাকে পরকীয়ার আশ্রয় নিতে বাধ্য করেছি। তবুও সে আমাকে ক্রমাগত ভালোবেসে গেছিলো দিনের পর দিন।

সায়েম কথাগুলা আওড়াতে আওড়াতে রাস্তায় পড়ে যায়।পকেটে ফোনটা বাজছে। সাহিদা কান্নায় ভেঙে পড়তে পড়তে তাকে কল করেই যাচ্ছে শুধু একবার এইটা বলার জন্য তাকে এখনো সাহিদা খুব ভালোবাসে।

সায়েম সাহিদার মত সাহসী ছিলনা আঘাত সহ্য করার দিক দিয়ে।সে আঘাত দিতে পেরেছে কিন্তু নিজে সে আঘাত নিতে পারলোনা।ফোন ক্রমাগত বেজেই চলেছে ওপাশে বাড়ছে কান্নার আওয়াজ। ফোন তোলার কেউ নেই ।

You may also like...