echo '' ;

ইন্টারনেট অব থিংস

ইন্টারনেট ,যার অর্থ ইন্টার কানেকশন নেটওয়ার্ক।এ যুগে এই শব্দটির সাথে পরিচিত নয় এমন কাউকে কি পাওয়া যাবে!!

একদমই না।ছোট্ট একটি বাচ্চাকেও ইন্টারনেট সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সেও আপনাকে বিধিধ উত্তর দিয়ে দিবে।কিন্তু এতদিন আমরা যে ইন্টারনেটের কথা জেনে এসেছি তা হলো ইন্টারনেট অব পিপলস।অর্থাৎ মানুষের ইন্টারনেট।কিন্তু এবার আপনি জানতে চলেছেন নতুন এক বিস্ময়ের কথা।এর নাম ইন্টারনেট অব থিংস বা জিনিসপত্রের ইন্টারনেট।কি অদ্ভুত শোনাচ্ছেনা !!

 

জিনিসপ্ত্রের আবার ইন্টারনেট কি তাইতো!এখন জিনিসপত্রও ইন্টারনেট ব্যবহার করতে শুরু করবে আপনি কি আমাকে তাই বলছেন ,এমনি একটা প্রশ্ন নিশ্চিত আপনার মাথায় চলে এসেছে।জ্বি আমি আপনাকে বলছি এটাই হতে চলেছে।বিভিন্ন কারনেই বাংলাদেশের মানুষ এখনো ইন্টারনেট অব থিংস এর ধারনা থেকে অনেক বাইরে আছে তাই হয়তো ইন্টারনেট অব থিংস কথাটা আপনার কাছে অদ্ভুত শোনাচ্ছে।আবার অনেকেই হয়তো আছেন যারা বাক্যটা শুনেছেন কিন্তু এ সম্পর্কে এখনো খুব বেশি একটা জানেন না।

 

 

তবে আসুন একটা কল্পনা করি

 

মনে করুন আপনি কর্মব্যস্ত একজন মানুষ।কাজশেষে সন্ধ্যায় ঘরে ফেরার পালা এলো।আপনি বাড়ি ফিরছেন।এসময় আপনি আপনার ফোনে একটা মেসেজ টাইপ করে আপনার বাড়িকে জানিয়ে দিলেন আপনি বাড়ি ফিরছেন আধ ঘন্টা পর।আপনার মেসেজটি আপনার বাড়ি তৎক্ষনাৎ পাওয়ামাত্রই আপনার কফিমেকারকে নির্দেশ দিলো এককাপ কফি তৈরি করতে।কারন আপনি বাড়ি ফিরেই কফি খেতে পছন্দ করেন ।এবং সাথে সাথেই আপনার রুমটি রুম টেম্পারেচার মেপে নিয়ে দেখে নিলো ঠিক আছে কিনা।রুমে সুগন্ধি ছড়িয়ে দিলো একটি মেশিন।আধঘন্টার মাঝেই আপনি বাড়ি এসে পৌছালেন।আপনি পৌছানো মাত্র আপনার বাড়ির দরজা আপনার চোখের লেন্স স্ক্যান করে নিয়ে আপনাকে বাড়ির ফটক খুলে দিলো।আপনি সোফায় গিয়ে বসামাত্র আপনার সামনে উপস্থিত হলো কফি।এদিকে আপনি কফি খেতে খেতে বাথ্রুমে গরম জল দেয়া হয়ে গেছে।রাইস কুকারটা চালু হয়ে গেছে।আপনি বাথ্রুমে ঢোকামাত্র আপনার মুড বিশ্লেষন করে নিয়ে একটি মেশিন কিছু মিউজিক প্লে করতে শুরু করেছে।এভাবে তো ক্রমানয়ে অনেক কিছুই কল্পনা করা যায় আপু ,কিন্তু এসব কেবল স্বপ্নেই সম্ভব এতাই ত আপনি বলবেন।

নাহ, এটা অসম্ভব নয়।ইন্টারনেট অব থিংস এমনি একটি ধারনা যা প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে খুব দ্রুত।

 

ইন্টারনেট অব থিংস কাকে বলে?

উপরে তো আমি আপনাকে একটি গল্প শোনালাম।এ থেকে আপনি কি বুঝলেন।নিশ্চয়ই বলবেন জিনিসপত্র যখন নিজের সাথে যোগাযোগ করতে পারে তাই ইন্টারনেট অব থিংস।ঠিক তাই,আমি আপনার এ কথাটি নিলাম।একবাক্যে জিনিসপত্র যখন একে অপরের সাথে কমিউনিকেশন করে নিয়ে বিভিন্ন কাজ সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করে তাকেই ইন্টারনেট অব থিংস বলে।

 

কিভাবে সম্ভব!!

সর্বপ্রথম ইন্টারনেট অব থিংস ধারনা্টি এসেছে ১৯৯৯ সালে।এর পর থেকেই এই ধারনার উপর অনেক রিসার্চ হচ্ছে।অনেক কম্পানি ,অনেক কর্পোরেটে IOT এপ্লিকেশন হচ্ছে এবং ফোর্থ ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল রেভোলিউশনের বড় একটা উপাদান হচ্ছে আইওটি।কিন্তু বাংলাদেশে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি।তাই বাংলাদেশে এর ধারনা সম্পর্কে পরে কথা বলছি।এবার আসা যাক আইওটি কাজ করে কিভাবেঃ

একটা যন্ত্রকে অন্য একটা যন্ত্রের সাথে কথা বলানোর প্রয়োজন হয় এই ধারনায়।তাই এজন্য যন্ত্রকে প্রথম অনুভুতি ক্ষমতা দিতে হবে।আমরা সবাই সেন্সর নামটির সাথে পরিচিত।কারণ আমাদের স্মার্টফোনে এত এত সেন্সরঃ

প্রক্সিমিটি সেন্সর ,টেম্পারেচার সেন্সর ।তাহলে যন্ত্রকে আইওটি ধারনার চালনা করার জন্য সেন্সর দিতে হবে।তারপর এরা যেন নিজেদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে সেজন্য কমিউনিকেশন পাওয়ার হিসেবে ইন্টারনেট সংযোগ দিতে হবে।তৃতীয়ত ,ইন্টারপ্রিটার ।কেননা আপনি তো যন্ত্রের ভাষা বোঝার মত ক্ষমতা রাখেন না।মোটামোটি এই সিস্টেমটা ঠিক হয়ে গেলেই এক যন্ত্র আরেক যন্ত্রের সাথে কথা বলতে পারবে এবং নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে কাজ করতে পারবে।বিভিন্ন ধরনের ডাটা আদান-প্রদান করতে পারবে এবং শেয়ারকৃত ডাটা এনালাইসিস করে তারা মিনিংফুল ইনফরমেশন বের করতে পারবে এবং আপনার বেটারমেন্টের জন্য ব্যবহার করতে পারবে।এটা হচ্ছে আইওটি এর ধারনা।

 

আইওটি এর ব্যবহার

আইওটি এর ব্যবহার যদি লিখতে শুরু করি তবে লেখা আর ফুরোবেনা।এর ব্যবহার এন্ডলেস।অনেক অনেক ব্যবহার রয়েছে এর।জীবনের প্রত্যেকটি জায়গায় আইওটি কাজ করতে পারে।একেতো হচ্ছে আপনার স্মার্ট হোম,দ্বিতীয়ত ট্রাফিক কনট্রোল হতে পারে,আপনার মেডিকেলের এসিসট্যান্ট হতে পারে এছারাও পাওয়ার সেভ হবে আইওটি ব্যবহারের ফলে।যেমন ধরুন ,আপনার হাতে একটি রিস্টব্যান্ড পরেছেন।এবং এটি আপনার প্রতিসেকেন্ডে হেলথ সম্পর্কে তথ্য রাখছে।হঠাৎ আপনি খুব অসুস্থ হয়ে পড়লেন ।সাথে সাথে রিস্টব্যান্ডটি এ তথ্যটি জেনে গেলো এবং হাসপাতালে যোগাযোগ করে দিলো।এভাবেই উদাহরন দিলে উদাহরন ফুরোবেনা।

 

পরিশেষে,

বাংলাদেশে আইওটি ধারনা এখনো লোকের কাছে অবিশাস্য একটি ব্যাপার।অনেকেই মনে করেন এটি খুবই বিলাসবহুল চিন্তা ।কিন্তু এটি খুব বেশি বিলাসভুল চিন্তা নয়। ইতিমধ্যেই অন্যান্য দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এর ব্যবহারে।বাংলাদেশেও ইতিমধ্যে সরকারের থেকে এ সম্পর্কে সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে।এখন কেবল মানুষের মাঝে এই ধারনাটি ছড়িয়ে পড়ার অপেক্ষা।

 

 

You may also like...